জুমার নামাজে এক রাকাত ছুটে গেলে কী করণীয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
মুসলমানদের জন্য শুক্রবার সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এটি সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই দিনেই পৃথিবীর প্রথম মানুষ হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)।
শুক্রবার যেসব ইবাদত ও আমল করা হয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনে সাধারণত তা করা হয় না। এই ব্যতিক্রম মুসলমানদের আনন্দ দেয়। ইবাদতে প্রাণ সঞ্চার করে। শুক্রবার পেয়ে আনন্দিত হওয়া সওয়াব। এটি সুন্নতও। কারণ, এ দিনের গুরুত্ব অনেক। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দিনে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। বিশেষ আমল করতেন।
জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)।
আরও পড়ুন: জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১০ আমল, জানুন ফজিলত
এ দিনের সবচেয়ে বড় আমল জোহর নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করা। জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ ও ইমামের খুতবাকে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। জুমার নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্যই ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক (প্রাপ্তবয়স্ক) মুসলমানের জন্য জুমার নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।’ (সুনানে নাসায়ি)।
জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া অপরাধ
এ নামাজ ছেড়ে দেওয়া অপরাধ। এ নামাজ পরিত্যাগকারী ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে অবহেলা করে তিন জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার হৃদয় মোহরাঙ্কিত করে দেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৫০২)
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কোনো অপরাগতা এবং অনিষ্টের ভয় ছাড়া জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করে না, মুনাফিকের এমন দপ্তরে তার নাম লেখা হয়, যা কখনও মোছা বা রদবদল করা হয় না।’
জুমার নামাজের রাকাত ছুটে গেলে
জুমার নামাজ এক রাকাত ছুটে গেলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর বাকি রাকাত একা পড়ে নিতে হবে। অন্যান্য নামাজের মতোই এক রাকাত আদায় করতে হবে। এ জন্য ভিন্ন কোনো নিয়ম নেই। এভাবে আদায় করলে জুমার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: জুমার নামাজ পড়লে কত বছরের গুনাহ মাফ হয়
তবে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাতের রুকু শেষ হওয়ার পর জামাতে শরিক হয়, তাহলে সে জুমার নামাজ পাবে না। তাকে এ অবস্থায় জোহরের চার রাকাত নামাজ আদায়ের নিয়তে জামাতে শরিক হতে হবে। পরবর্তীতে ইমামের সালাম ফেরানোর পর চার রাকাত ফরজ পড়তে হবে। (ফতোয়া ইসলামিইয়া, সৌদি ওলামা-কমিটি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪১৮-৪২১)
কোনো কারণে জুমার নামাজ না পেলে জোহরের নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ, জামাত ছাড়া জুমার নামাজ হয় না। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘যে জুমার এক রাকাত পেয়ে যায়, সে যেন আরেক রাকাত পড়ে নেয়। কিন্তু যে (দ্বিতীয় রাকাতের) রুকু না পায়, সে যেন জোহারের চার রাকাত পড়ে নেয়।’ (ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৬২১)।
ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতে জুমার নামাজের দ্বিতীয় রাকাতও না পেলে, শুধু শেষ বৈঠক পেলে অর্থাৎ ইমাম সালাম ফেরানোর আগে জামাতে শরিক হতে পারলেেই সেটা জুমা গণ্য হবে। ইমাম সালাম ফেরানোর পর মাসবুক হিসেবে দুই রাকাত জুমা পূর্ণ করতে হবে।
মুক্তাদি তাশাহুদ পড়ার আগে যদি ইমাম সালাম ফেরান, তাহলে মুক্তাদি নিজে তাশাহুদ পূর্ণ করে বাকি নামাজের জন্য দাঁড়াবেন।
কিতাবুল আসারে উল্লিখিত রয়েছে, ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) বলেছেন, কেউ যদি জুমার দিন মসজিদে আসার পর ইমামকে শেষ বৈঠকে পায়, তাহলে এক তাকবির বলে নামাজে অংশগ্রহণ করবে এবং আরেক তাকবির বলে বসে তাশাহুদ পড়বে। এরপর ইমাম যখন সালাম ফেরাবে তখন দাঁড়িয়ে যাবে এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেবে। (কিতাবুল আসার: ১২৮)
তবে ইমাম মালেক, শাফেঈ ও আহমদ (রহ.) বলেন, জুমার নামাজ পাওয়ার জন্য ইমামের সাথে অন্তত এক রাকাত পেতে হবে অর্থাৎ দ্বিতীয় রাকাতের রুকু শেষ হওয়ার আগেই জামাতে শরিক হতে হবে। ইমাম দ্বিতীয় রাকাতের রুকু থেকে ওঠার পর কেউ জামাতে যোগ দিলে ওই নামাজ তার জন্য জুমা নয়, বরং জোহর গণ্য হবে। তাই নামাজটিকে জুমা হিসেবে দুই রাকাত নয়, জোহর হিসেবে চার রাকাত পড়তে হবে। ইমাম সালাম ফেরানোর পর সে দাঁড়িয়ে যাবে এবং জোহরের নামাজ হিসেবে চার রাকাত পূর্ণ করবে।
