নতুন ৪ নাম যুক্ত হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদে, আলোচনায় আছেন যারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ফাইল ছবি
বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। আগামী ১৭ আগস্ট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্ণ করবে। এ সময়কে সামনে রেখে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার ও সরকারের বাইরে চলছে এ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা।
এই মূল্যায়নের পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে— এমন গুঞ্জন থাকলেও বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত কম।
তবে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল না হলেও এর আকার বাড়তে পারে। সরকারের কাজের গতি বাড়ানো এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের ওপর চাপ কমাতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান কাঠামো মোটামুটি অপরিবর্তিত রেখে নতুন চারজনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়টি বাস্তবায়নের একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন প্রয়োজন মনে করবেন, তখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা শেষ হচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এর পরদিন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন কিংবা দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’
সরকারের শুরুতে তুলনামূলক বড় পরিসরে মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে একজন মন্ত্রীর ওপর একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে।
একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ওপর কাজের চাপ বাড়ছে। ফলে প্রশাসনিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী কাজে আরও মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপিকে মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপিকে প্রতিমন্ত্রী এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ে শামীম কায়সার লিংকন এমপিকে প্রতিমন্ত্রী করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নির্ধারিত উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন: পরাজয় জেনেও কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিল জামায়াত জোট
সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা থেকে কাউকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বরং ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের পর কোন মন্ত্রণালয়ে কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, প্রথম ধাপে বড় ধরনের ‘রদবদল’ নয়, বরং দায়িত্বের ক্ষেত্রে সীমিত ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ হতে পারে। এতে বর্তমান মন্ত্রিসভার কাঠামো মোটামুটি অপরিবর্তিত রেখে নতুন চারজনকে যুক্ত করার সম্ভাবনাই বেশি।
মন্ত্রিসভার পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে একজন প্রভাবশালী সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপাতত মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হবে আগামী ১৬ আগস্ট। এরই মধ্যে সব মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।’
এদিকে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির মূল্যায়ন করা হবে। গত ছয় মাসে মন্ত্রীরা কতটা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে তিনি নিজের বিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানাবেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাবে।
সব মিলিয়ে, সরকারের প্রথম ছয় মাসের মূল্যায়নের পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের চেয়ে দায়িত্বের ভারসাম্য আনা এবং সীমিত পরিসরে নতুন সদস্য যুক্ত করার সম্ভাবনাই আপাতত বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।
