আন্দোলনের মুখে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কঠোর বার্তা মোদির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা একটি জাতীয় দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ক্ষমতাসীন এনডিএ সংসদীয় জোটের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি পরীক্ষা ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রিজিজুর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী এনডিএর শরিক দলগুলোর প্রতি আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোকেও সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দিল্লিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী নিট পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) ভারতের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষাগুলোর একটি। প্রতি বছর ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর চলতি বছরের পরীক্ষা বাতিল করে পরে পুনরায় আয়োজন করা হয়।
এদিকে, সিবিএসইর অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বহু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, স্বয়ংক্রিয় ফলাফল প্রক্রিয়ায় ভুল গ্রেড প্রদান এবং অন্য শিক্ষার্থীর নামে ফল প্রকাশের মতো ত্রুটি ঘটেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
