‘সমুদ্র মন্থন’ মোদী সরকারের
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৮৪ হাজার কোটির প্রকল্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সমুদ্রের গভীরে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে ‘সমুদ্র মন্থন’ নামে একটি বৃহৎ জাতীয় প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় অফশোর (সমুদ্রভিত্তিক) অনুসন্ধান প্রকল্প ‘সমুদ্র মন্থন’-এর অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রায় ৮৪ হাজার ৮৪ কোটি রুপি ব্যয়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, দেশীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন এবং ‘বিকশিত ভারত’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সরকার।
প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের গভীরে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ৬ কোটি মেট্রিক টনের বেশি তেলসম্ভার চিহ্নিত ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করা এবং গভীর সমুদ্র প্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকারের আশা, এই উদ্যোগ অনুসন্ধান ও উৎপাদন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমানের সিসমিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, গভীর ও অতি-গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানমূলক খনন, নতুন এলাকায় বৈজ্ঞানিক জরিপ, যৌথ উৎপাদন ও পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সমন্বিত তেল-গ্যাস উৎপাদন ও সেবা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য তেল ও গ্যাসের মজুত অনুসন্ধানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিললেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বড় পরিসরে অনুসন্ধান হয়নি। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে এবার সেই অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে যাচ্ছে ভারত।
