মেম্বারকে স্বামী দাবি করে দুই নারীর ধস্তাধস্তি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক ইউপি সদস্যকে স্বামী দাবি করে দুই নারীর মধ্যে প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুই নারীর চুল টানাটানি ও হাতাহাতির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ওই ইউপি সদস্যের নাম লিটন সরকার। তিনি রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, লিটন সরকারকে নিজের স্বামী দাবি করা নিয়েই দুই নারীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা নারীর বক্তব্য, লিটন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। এ-সংক্রান্ত তালাকনামা তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে প্রথম স্ত্রীর দাবি, তাকে কোনো তালাক দেওয়া হয়নি এবং লিটন দ্বিতীয় বিয়েও করেননি।
সোমবার সকালে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে এ বিষয় নিয়ে দুই নারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায়।
প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হক ও মিঠু মিয়া জানান, দুই নারী একে অন্যকে উদ্দেশ করে চিৎকার করছিলেন। পরে তারা পরস্পরের চুল ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের শান্ত করেন।
খবর পেয়ে লালমনিরহাটের গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন মেম্বার ঘটনাস্থলে যান। পরে তিনি দুই নারীকে উদ্ধার করে নিজের জিম্মায় নেন এবং চায়না বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে তাদের দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
রিপন মেম্বার বলেন, তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী মারামারি করছেন- এমন খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। পরে দুজনকেই চায়না বাজারে নিয়ে আসেন। দুই নারীই লিটনের স্ত্রী বলে দাবি করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের নিজের জিম্মায় নেওয়া হয়।
গোকুন্ডা ইউনিয়নের মিঠু মিয়া বলেন, বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী চুল ধরে মারামারি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের ঝগড়া থামিয়ে সেখান থেকে নিয়ে আসেন।
লিটনের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জানান, ফোনে লিটনের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, লিটন ঢাকায় নেই। এরপর লিটন তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে তিনি সেখানে আসেন। তার কাছে তালাকনামা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, লিটন তাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। বিষয়টি যাচাই করতেই তিনি সেখানে এসেছেন।
ওই নারী আরও জানান, এর আগে তার একটি সংসার ছিল। সেই সংসার ছেড়ে তিনি লিটনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ও ইন্টার্নি করছেন বলেও পরিচয় দেন।
অন্যদিকে, লিটন সরকার বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে দুই নারীর মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কিছু না বলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর চায়না বাজারসহ রাজারহাটজুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর আইনগত ও সামাজিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
তথ্যসূত্র: কালবেলা
