কলকাতার ফুটপাতে ঘুমাচ্ছেন বাংলাদেশিরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চিকিৎসার জন্য ভারতের কলকাতায় গিয়ে এবার থাকার জায়গা সংকটে পড়েছেন বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা। শহরের নিউ মার্কেট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় একের পর এক হোটেল ও গেস্টহাউজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হাসপাতালের আশপাশে থাকার জায়গা পাচ্ছেন না।
ফলে লাগেজ নিয়ে রাস্তার পাশে, ফুটপাতে কিংবা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে অনেক বাংলাদেশিকে। একই ধরনের সংকটে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দূরবর্তী অঞ্চল থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা অসচ্ছল রোগী ও তাদের স্বজনরাও।
গত ১৯ আগস্ট ভোররাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এরপর অগ্নিনিরাপত্তা ও ভবনবিধি নিশ্চিত করতে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাবিধি না মানা হোটেল ও গেস্টহাউজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কলকাতায় ৫০টির বেশি হোটেল বন্ধ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও অনেক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের অভিযানে শহরটিতে প্রায় দেড় হাজার হোটেল কক্ষ কমে গেছে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে রোগীরা
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিশেষ করে ক্যানসারসহ গুরুতর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা প্রয়োজন হয়।
কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের নিয়ে প্রতিদিন দূরের কোনো এলাকা থেকে হাসপাতালে যাতায়াত করা অনেক পরিবারের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আবার হাসপাতালের আশপাশে থাকা হোটেলগুলোর ভাড়া বেশি হওয়ায় অসচ্ছল পরিবারগুলোর পক্ষে সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
ঠাকুরপুকুর ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্রের আশপাশেও বর্তমানে রোগী ও স্বজনদের ভিড় বেড়েছে। কিন্তু কম খরচে থাকার মতো জায়গার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশি এক রোগীর স্বজন আতিফ মাসুদ বলেন, কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীকে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যাতায়াত করা অত্যন্ত কঠিন। আরেক বাংলাদেশি নাগরিক বলেন, বৈধ ভিসা নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসেও থাকার জায়গা না পাওয়ায় তারা চরম হতাশায় পড়েছেন।
একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ভারতের আসাম থেকে আসা এক নারীও। তার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি নিজে থাকার জায়গা খুঁজতে রাস্তায় ঘুরছেন। এমনকি অনেকের জন্য প্রয়োজনীয় শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বিকল্প ব্যবস্থার দাবি
তবে এই সংকট শুধু বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসার জন্য আসা দরিদ্র রোগী ও তাদের স্বজনরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।
তাদের বক্তব্য, জননিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপত্তাবিধি না মানা হোটেল অবশ্যই বন্ধ করা উচিত। তবে একই সঙ্গে অসুস্থ রোগী ও স্বজনদের জন্য বিকল্প ও স্বল্পমূল্যের আবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এদিকে কলকাতায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপহাইকমিশন।
