যেসব কারণে হজ নিবন্ধনে সাড়া নেই হাজিদের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হলেও এখনো প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার ১১৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন। অথচ সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে এবার ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৩৬৩ জন প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। ফলে নিবন্ধনের জন্য হাতে রয়েছে সীমিত সময়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের তুলনায় হজ প্যাকেজের মূল্য কমানো হলেও প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হচ্ছে। এরপর আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে হজ প্যাকেজের বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
তাদের মতে, এককালীন এত বড় অঙ্কের টাকা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণেই অনেক সম্ভাব্য হজযাত্রী এখনো নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে শেষ মুহূর্তে নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হজ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, সৌদি আরবকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীর কোটার চাহিদা জানাতে হবে। এ কারণে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ নেই।
তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮ হাজার ব্যক্তি প্রাক-নিবন্ধন করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের একটি বড় অংশ প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে হজযাত্রীকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজের প্রাথমিক নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিস এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধন করা যাবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুকদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় নির্ধারিত ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হবে। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
২০২৭ সালের হজে ১৫ বছরের কম বয়সীরা অংশ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার ও কিডনি রোগ, জটিল স্নায়ুবিক ও মানসিক ব্যাধি এবং ডিমেনশিয়া। কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি গ্রহণকারী ক্যানসার রোগীরাও হজে যেতে পারবেন না।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশেষ করে যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্তরা হজে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না।
এ ছাড়া গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীদের হজের জন্য স্বাস্থ্যগত ফিটনেস সনদ দেওয়া হবে না।
প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণসংক্রান্ত তথ্য, নিজ জেলা, হজের ধরন এবং পছন্দের হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।
এ ছাড়া হজযাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
