×

আন্তর্জাতিক

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কী লিখেছিলেন প্রণব মুখার্জি

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২০, ০৭:৫৫ পিএম

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কী লিখেছিলেন প্রণব মুখার্জি

প্রণব মুখার্জি

প্রণব মুখার্জির বই ‘মুক্তিযুদ্ধ: দ্য মেকিং অব বাংলাদেশ’
প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। বাঙালি হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রণব মুখার্জির আত্মিক সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন: ‘ভারত ও বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশী নয়; তাদের মধ্যে রয়েছে নৃতাত্ত্বিক ও জাতিগত বন্ধন। বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি ভারত সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। কেননা, আমরা অভিন্ন ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা ও ভৌগোলিক সংহতি ধারণ করি।’ প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বাংলাদেশের এই বন্ধুত্বের সূচনা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে। তাঁর আত্মজীবনীমূলক সিরিজের প্রথমটি দ্য ড্রামাটিক ডিকেড: দ্য ইন্দিরা গান্ধী ইয়ারস–এ তিনি একটি পুরো অধ্যায়ই লিখেছেন ‘মুক্তিযুদ্ধ: দ্য মেকিং অব বাংলাদেশ’ নামে। আর সেখানেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রণব লিখেছেন, ‘১৫ জুন বাজেট অধিবেশন চলাকালে আমি রাজ্যসভায় বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিই। আমি বলেছিলাম, ভারতের উচিত বাংলাদেশের প্রবাসী মুজিবনগর সরকারকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেয়া। একজন সদস্য জানতে চান, কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। উত্তরে আমি জানাই, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমেই এর রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব। রাজনৈতিক সমাধান মানে গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে বস্তুগত সহায়তা করা। আমি সংসদকে এটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম যে বিশ্ব ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করার বহু নজির আছে।’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রণব কী ভূমিকা রেখেছেন, তা–ও তিনি স্পস্ট করতে এই বইয়ে লিখেন ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে এই মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে। তিনি লিখেছেন, ‘সে সময় থেকেই ইন্দিরা গান্ধী আমাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ১৯৭১-এর সেপ্টেম্বরে আমাকে প্রথম আন্তসংসদীয় ইউনিয়নের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য মনোনীত করেন। সেই বৈঠকে আমাদের কাজ ছিল প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং ভারতের অবস্থান বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা, যাতে তাঁরা যে যাঁর দেশে ফিরে গিয়ে নিজেদের সরকারকে বিষয়টি অবহিত করতে পারেন। হতে পারে এই বৈঠকে আমার ভূমিকার কথা প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছেছিল এবং তিনি খুশি হয়েছিলেন। কেননা, এরপর একই দায়িত্ব দিয়ে তিনি আমাকে ইংল্যান্ড ও জার্মানি পাঠান।’ এছাড়া ২০০৭ সালে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় হয়। এতে অনেক ঘরবাড়ি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায়। সেই ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে প্রণব মুখার্জি লিখেছেন, দুর্যোগের খবর পেয়েই ভারত ওষুধ, তৈরি খাবার, কম্বল, তাঁবু ও বহনযোগ্য বিশুদ্ধ পানিসহ ত্রাণসামগ্রী বাংলাদেশে পাঠায়। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ভারত চাল রপ্তানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। প্রণব মুখার্জির উদ্যোগেই বাগেরহাটের দুটি উপজেলায় ভারতের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের জন্য ২ হাজার ৮০০ ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

৩ দিনের মধ্যে ৩৫৭ কর্মকর্তার তথ্য চায় পুলিশ সদরদপ্তর

৩ দিনের মধ্যে ৩৫৭ কর্মকর্তার তথ্য চায় পুলিশ সদরদপ্তর

গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন, গেজেট প্রকাশ

গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন, গেজেট প্রকাশ

আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের নিলামে সাকিবসহ ১০ বাংলাদেশি ক্রিকেটার

আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের নিলামে সাকিবসহ ১০ বাংলাদেশি ক্রিকেটার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App