চীন ও হংকংয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ইরানের সামরিক বাহিনীকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করার অভিযোগে চীন ও হংকংয়ের ৯টি কোম্পানি এবং ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন অর্থ ও পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মার্কিন অর্থ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ হওয়া কোম্পানি ও ব্যক্তিরা ইরানের শাহেদ সিরিজের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কাঁচামাল সরবরাহে ভূমিকা রেখেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টাও এখন থমকে গেছে।
ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে যে তেহরানের উৎপাদন ক্ষমতা পুনর্গঠন ঠেকাতে তারা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে। অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে সহায়তাকারী যেকোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারসের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য ইরান যে হুমকি তৈরি করছে, তা দমন করাই এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের তথ্যমতে, ইরান বর্তমানে ড্রোন উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। দেশটির প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে।
ব্রেট এরিকসন অবশ্য মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনো সীমিত পরিসরে। ফলে ইরান বিকল্প উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে। এমনকি ইরানের অর্থনীতি সচল রাখা চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি।
