এক লটারিতেই কপাল ফিরল পাঁচ বন্ধুর, জিতলেন শতকোটি টাকা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাড়ি জমিয়েছিলেন পাঁচ বন্ধু। সেখানে বছরের পর বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্য বদলের আশায় একসঙ্গে নিয়মিত লটারির টিকিট কিনতেন তাঁরা। অবশেষে সেই অধ্যাবসায় আর বিশ্বাসের অবিশ্বাস্য এক পুরস্কার পেলেন এই প্রবাসীরা। একটি মাত্র লটারির ড্রতে রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এই পাঁচ বন্ধু।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধুদের একসঙ্গে জমানো টাকায় ২৬ বছর বয়সী নেপালি প্রবাসী তায়াব খানের কেনা ইউএই লটারি ‘লাকি ডে’ ড্রতে প্রথম পুরস্কার জিতেছে। গত ২৭ মে (বুধবার) অনুষ্ঠিত ওই ড্রতে তায়াব খানের নির্বাচিত টিকিটটি ৩ কোটি আমিরাতি দিরহাম জিতে নেয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় শতকোটি টাকার সমান। পাঁচ বন্ধু লটারির এই বিশাল অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই হিসাবে তাদের প্রত্যেকেই পাবেন প্রায় ৬০ লাখ দিরহাম বা ২০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
লটারি বিজয়ী যুবক তায়াব জানান, উন্নত জীবনের আশায় চার বছর আগে তিনি আমিরাতে আসেন। ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ক্রল করার সময় প্রথম এই লটারির বিজ্ঞাপনটি তার নজরে আসে। এরপর তিনি তার অন্য চার বন্ধুকে একসঙ্গে লটারি কাটার প্রস্তাব দেন। বন্ধুদের সবাই রাজি হয়ে প্রতি সপ্তাহে নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে টিকিট কেনা শুরু করেন। লটারির টিকিট কেনার ক্ষেত্রে তাদের একটি মজার নিয়ম ছিল প্রতি সপ্তাহে পালাক্রমে একেকজন বন্ধু লটারির নম্বর নির্বাচন করতেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তায়াব বলেন,'আমরা প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত অংশ নিয়েছি এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস ধরে রেখেছিলাম। অনেক সময় মনে হয়েছে হয়তো আমাদের দিয়ে আর হবে না, কিন্তু আমরা কখনো আশা ছাড়িনি। কাকতালীয়ভাবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হওয়া টিকিটটি আমিই নির্বাচন করেছিলাম।'
লটারির ফলাফল ঘোষণার সময় অবশ্য তায়াব সরাসরি ড্র অনুষ্ঠানটি দেখেননি। এমনকি ড্র শেষে তার ইমেইলে একটি নোটিফিকেশন আসলেও প্রথমে তা খুব একটা পাত্তা দেননি তিনি। তায়াব বলেন,'এর আগেও ছোটখাটো কিছু পুরস্কারের জন্য আমি এমন ইমেইল পেয়েছিলাম। তাই শুরুতে ভেবেছিলাম এবারও হয়তো তেমনই কিছু একটা হবে। কিন্তু ইমেইলটি ওপেন করতেই আমার চারপাশের সবকিছু বদলে যায়।'
লটারি জেতার সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে এই যুবক বলেন,'মেইলটি খুলতেই দেখি সেখানে লেখা রয়েছে ৩ কোটি দিরহাম! মুহূর্তের মধ্যে আমার পুরো শরীর কাঁপতে শুরু করে। মনে হচ্ছিল আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি, কিছুতেই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এরপর নিশ্চিত হওয়ার জন্য লটারির অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে লগইন করলাম। সেখানেও বড় বড় অক্ষরে তিন কোটি দিরহাম লেখা দেখে স্তব্ধ হয়ে যাই।'
তায়াব জানান, পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি সবার আগে তার সেই চার বন্ধুকে ফোন করে এই সুখবরটি দেন। এরপর ফোন করেন তার আপন চাচাকে, যাকে তিনি নিজের বাবার মতোই সম্মান করেন এবং যিনি তাকে প্রথম আমিরাতে আসতে সাহায্য করেছিলেন।
চাচাকে লটারি জেতার কথা বলার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তায়াব বলেন,'প্রথমে চাচাকে বললে তিনি বিষয়টি ঠিক বুঝতে পারেননি। পরে যখন বুঝিয়ে বললাম যে আমরা লটারি জিতেছি এবং তিনি জিজ্ঞেস করলেন কত টাকা? তখন আমি যখন বললাম তিন কোটি দিরহাম, আনন্দের আতিশয্যে তার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছিল।'
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বন্ধুদের নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তায়াব আরও বলেন,'এই লটারির টাকা কেবল আমার একার নয়, আমাদের বাকি বন্ধুদের জীবনেও দারুণ পরিবর্তন আনবে। আমাদের এক বন্ধু বহু বছর ধরে নিজের পরিবার থেকে দূরে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। আরেকজন বন্ধু কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন। আর অন্য এক বন্ধু তো মাত্র কিছুদিন আগেই বাবা হয়েছেন। এই সাফল্যের পর সবার সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।'
