সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই সমঝোতার আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ব্যবস্থা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ নীতির সঙ্গে তুলনীয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে আয়োজিত এক বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এর মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা অন্য দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবেও বিবেচিত হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও জোরদার করার দিকনির্দেশনা দেবে এই চুক্তি।
তুরস্কের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক অন্য দেশগুলোও চাইলে এতে যোগ দিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে সামরিক বা নিরাপত্তা সহযোগিতার নির্দিষ্ট কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই কৌশলগত জোট গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট এই উদ্যোগে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চুক্তির ফলে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান, ন্যাটো সদস্য ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পসমৃদ্ধ তুরস্ক এবং তেলসমৃদ্ধ প্রভাবশালী রাষ্ট্র সৌদি আরব সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডিফেন্স স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক মনসুর আহমেদ বলেন, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা যৌথভাবে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে পারে, আর রিয়াদ প্রযুক্তি ও অর্থায়নের মাধ্যমে সেই সহযোগিতাকে শক্তিশালী করতে সক্ষম।
সূত্র: ডন, আনাদোলু।
