×

জাতীয়

ফাঁকা সড়কে দুই বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল, চালকদের চোখে ছিল ঘুম: পুলিশ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪১ পিএম

ফাঁকা সড়কে দুই বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল, চালকদের চোখে ছিল ঘুম: পুলিশ

ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে চালকদের গাফিলতিকেই দায়ী করছে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য, সকালে ফাঁকা মহাসড়কে দুটি বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল এবং দুই চালকই ‘ঘুমঘুম চোখে’ গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। দুর্ঘটনার পর দুই বাসের চালকই পালিয়ে যান। তাদের খুঁজে বের করতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০), ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ও বর্তমানে সিলেটের চণ্ডিপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী মেয়ে জায়ফা, সিলেট নগরের সুবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবর এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে ও বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪)। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ভিডিওটি ইউনিক পরিবহনের বাসের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে ধারণ করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের বাসটি মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস একই লেনে থাকা একটি পিকআপকে ওভারটেক করতে গিয়ে সড়কের ডান পাশে চলে আসে। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ধাক্কায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে দুটি বাসই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. অপু মিয়া জানান, খাদে পড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের বাসেই হতাহতের সংখ্যা বেশি।

সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সকালে মহাসড়ক ফাঁকা থাকায় দুটি বাসই অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। একে অপরকে অতিক্রম করার প্রতিযোগিতার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, দুই চালকই ‘ঘুমঘুম চোখে’ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি আরও বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে নিহতদের মধ্যে সাতজনের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে থানায় এবং দুজনের মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক দুই চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ফাঁকা সড়কে দুই বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল, চালকদের চোখে ছিল ঘুম: পুলিশ

ফাঁকা সড়কে দুই বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল, চালকদের চোখে ছিল ঘুম: পুলিশ

দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ পাকিস্তানের অলরাউন্ডার হামজা নাজার

দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ পাকিস্তানের অলরাউন্ডার হামজা নাজার

কাঁচা মরিচে মিলল স্বস্তি, বাড়ল ডিম-মুরগি ও মাছের দাম

কাঁচা মরিচে মিলল স্বস্তি, বাড়ল ডিম-মুরগি ও মাছের দাম

বাংলাদেশ থেকে আনারস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান

বাংলাদেশ থেকে আনারস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App