যুক্তরাষ্ট্রে বিধ্বস্ত বিমানটি ৭০ হাজার পাউন্ড বোমা বহনে সক্ষম ছিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি বোয়িং ৫২ (বি-৫২) বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয় সোমবার (১৫ জুন)। এতে বিমানের ৮ জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন বলে ঘাঁটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এটি ১৯৮২ সালের পর বি-৫২ বিমানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ওই সময় স্যাক্রামেন্টোর কাছে ম্যাথার বিমানঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ চলাকালে আরেকটি বি-৫২ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনায় পড়া বি-৫২ স্ট্রাটোফোর্ট্রেস বিমানটি নিয়মিত একটি পরীক্ষামূলক মিশনে ছিল। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২০ মিনিটে এটি উড্ডয়ন করেছিল। এখন ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
বলা হচ্ছে, এটি এমন একটি দুর্ঘটনা, যেখানে বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ ছিল না।
বিমানটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং জানিয়েছে, তাদের দুইজন কর্মীও ওই ফ্লাইটে ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বি-৫২ বিমানটি রাডার আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনা করছিল।
দুর্ঘটনার পর রানওয়েতে পোড়া দাগ এবং কিছু ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে ধ্বংসাবশেষের নির্দিষ্ট অংশ সহজে শনাক্ত করা যায়নি।
কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা জানতে তদন্ত শুরু হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনায় পড়া বি-৫২ বিমানটি মার্কিন বিমানবাহিনীর সবচেয়ে পুরোনো সক্রিয় বিমানগুলোর একটি। এটি প্রথম ১৯৫৫ সালে ব্যবহারে আসে।
দীর্ঘপাল্লার এই ভারী বোমারু বিমান প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ড বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র বহন করতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত বি-৫২এইচ সংস্করণটি পারমাণবিক বোমা ও পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনেও সক্ষম।
দুর্ঘটনার আগে মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে এ ধরনের ৭৬টি বিমান ছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতেও এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে ২০০৮ সালে গুয়ামের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি বি-৫২ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন বিমানবাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছিলেন।
যদিও বি-৫২ বিমানের উৎপাদন ১৯৬২ সালেই বন্ধ হয়ে যায়, বিভিন্ন আধুনিকায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এগুলো এখনও চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিমানবাহিনী নতুন ইঞ্জিন সংযোজনসহ আরও একটি বড় আধুনিকায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
