ভেনেজুয়েলায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮৮৯, বাড়ছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮৯ জনে। এ সময় অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিঘ্ন ঘটায় সেখানে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আমেরিকা অঞ্চলের শাখা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএএইচও)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অপরিবর্তিত রয়েছে আহতের সংখ্যা। বর্তমানে আহতে হয়েছে ১৬ হাজার ৭৪০ জন।
একই দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিএইচওর পরিচালক এবং ডব্লিউএইচওর আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক জারবাস বারবোসা বলেন, ‘ভূমিকম্পে আহত হওয়ার পাশাপাশি আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া, অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি এবং টিকাদান ও নিয়মিত চিকিৎসা সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।’
গত ২৪ জুন আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ভেনেজুয়েলা সরকার ৮০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৯০৭ জনে।
বারবোসা বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর দুর্বল পরিবেশে বসবাসকারীরা শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের রোগে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্ভাব্য সংক্রমণ পর্যবেক্ষণে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে পিএইচও। এরই পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদারেরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার রয়টার্সকে বলেন, পরপর দুটি ভূমিকম্পে সৃষ্ট এই দুর্যোগ বিশ্বের যেকোনো সরকারের জন্যই মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন।
তিনি জানান, আগামী ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ লাখ মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘ।
তিনি আরো জানান, জাতিসংঘ ইতোমধ্যে সমন্বিত সহায়তা হিসেবে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন করেছে। ত্রাণ কার্যক্রম শুরুর পর গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ খাদ্যসহায়তা পেয়েছেন।
এ ছাড়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দিতে বিশেষজ্ঞ দলও মোতায়েন করছে জাতিসংঘ।
পিএইচওর স্বাস্থ্য জরুরি বিভাগের পরিচালক সিরো উগার্তে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে ভূমিকম্পের পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
