সৌদি আরব কি সত্যিই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পাচ্ছে?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের হাতে আসা নথি এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিস্তাররোধী ব্যবস্থার প্রচলিত কিছু শর্তের বাইরে গিয়ে এ অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে প্রস্তুত করা একটি খসড়া চুক্তি বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা ২০২৫ সালের অক্টোবরেই শেষ হয়।
আরো পড়ুন: ট্রাম্পকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যা দিলেন মোজতবা খামেনি
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে চুক্তিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষর বিলম্বিত হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যেন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের আশঙ্কা, চুক্তিটি অনুমোদন পেলে শুধু ডেমোক্র্যাটদের নয়, রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেও বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে। রাজনৈতিক এই বাস্তবতাকেও সিদ্ধান্তে বিলম্বের একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকি ও কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এই চুক্তি ভবিষ্যতে সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পথ সহজ করে দিতে পারে।
আরো পড়ুন: ইরানের নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
বিশেষজ্ঞরা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আগের একটি বক্তব্যও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেছিলেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটবে।
এ বিষয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের দেওয়া এক বিবৃতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ওই বিবৃতিতে ক্রিস রাইট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা, সৌদি আরবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা এবং একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা।
