ট্রাম্পকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যা দিলেন মোজতবা খামেনি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটনকে কঠোর শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর তাদের সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে, তবে দেশটির জন্য এক ‘অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক শিক্ষা’ অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে গত মাসে হওয়া শান্তি সমঝোতা বারবার লঙ্ঘন করার জন্য তিনি ওয়াশিংটনকে সরাসরি দায়ী করেছেন।’
শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির পক্ষে একটি বিশেষ লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: ২ সেনা নিহতের প্রতিশোধে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
প্রতিবেদ বলা হয়, ‘গত মাসে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন বিশ্ব দরবারে আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের আসলে কোনো ধরনের আইনি মূল্য বা বৈধতা নেই। চুক্তির ক্ষেত্রে মহাশয়তান মার্কিন প্রশাসন বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সবার কাছে পরিষ্কার করেছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ। দাদাগিরি, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা আমেরিকার রাষ্ট্রীয় নীতি ও মতবাদের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বিবৃতিতে আরো বলেন, ‘আমেরিকা যখন যুদ্ধ আরও উসকে দিতে চায় এবং নিজেদের জন্য আরও বড় মূল্য ও অপমান ডেকে আনতে উন্মুখ, তখন তাদের ভালো করে জেনে রাখা উচিত—প্রিয় ইরানি জাতি এবং সমগ্র প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এক অবিস্মরণীয় শিক্ষা প্রস্তুত করে রেখেছে।’
গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর এই আগ্রাসনকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে নিয়েছে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। ট্রাম্প প্রশাসনের নজিরবিহীন সামরিক চাপের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না।
সম্প্রতি ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু, রেলপথ এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে একের পর এক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের জবাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও দেশটির বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনায় সফলভাবে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এই হামলার পরপরই কুয়েতের স্থানীয় প্রশাসন তাদের নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হওয়ার জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।
আরো পড়ুন: মার্কিন হামলার মধ্যেই ইরানে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘায়িত যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও অজনপ্রিয়তার জন্ম দিয়েছে, যা দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিকে মারাত্মক সংকটের মুখে ফেলেছে। এরই মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ইরানের অন্যতম মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, হুথিরা যেকোনো মুহূর্তে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারখ্যাত কৌশলগত 'বাব আল-মান্দেব' প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। এমনটি ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে। ফলে এই যুদ্ধ ও হামলা বন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রসঙ্গত, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামানোর লক্ষ্যে গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে দুই দেশ। এর জেরে তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় যে, সেই শান্তি চুক্তিটি এখন পুরোপুরি অকার্যকর।
