ইরানে ফের মার্কিন হামলা, তেহরানজুড়ে দফায় দফায় বিস্ফোরণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।
টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সময় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ইরান। একই সময়ে দেশটির দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক সামরিক স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) ভোরে ওই বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তায় ইরানের তৈরি করা হুমকি দুর্বল করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: দিল্লির বিক্ষোভে পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করলেন কঙ্গনা
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, হামলার সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে শহরের বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর শহরের বিভিন্ন এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অপরদিকে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ফার্সের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ফার্স জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪০ মিনিটে চালানো ওই হামলায় শহরের বাইরে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। তবে তাবরিজ শহরের ভেতরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকা। তবে এবার তেহরান ও তাবরিজে হামলা চালানো সংঘাতের নতুন মাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের দিকে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তিনি পেন্টাগনের জন্য আরও ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের এই দাবিকে ঘিরে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েন হেগসেথ। জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ প্রশ্ন তোলেন, আগে যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে নতুন করে এত বড় অঙ্কের অর্থ কেন প্রয়োজন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ খুব শিগগিরই এবং জোরালোভাবে হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে।
