মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাজার উত্তপ্ত, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বুধবার (২২ জুলাই) এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় ইরানের হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়।
বুধবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ০৯ ডলারে পৌঁছায়। গত ১১ জুনের পর এটিই ব্রেন্ট তেলের সর্বোচ্চ মূল্য। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৩ ডলারে ওঠে।
আরো পড়ুন: ইরানে ফের মার্কিন হামলা, তেহরানজুড়ে দফায় দফায় বিস্ফোরণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের নির্দেশনা অমান্য করায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলোর চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে তেহরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হতো।
এদিকে, টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সময় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ইরান। একই সময়ে দেশটির দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক সামরিক স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) ভোরে ওই বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তায় ইরানের তৈরি করা হুমকি দুর্বল করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, হামলার সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে শহরের বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
