×

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের বাজারে ঝুঁকি, কঠিন সময়ের ইঙ্গিত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের বাজারে ঝুঁকি, কঠিন সময়ের ইঙ্গিত

ফাইল ছবি

বিশ্বের তেলবাজার এত দিন নানা ধাক্কা সামলে স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে। তবে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এবার সেই স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। এই যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক তেলবাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে ২০২২ সালের ব্যারেলপ্রতি ১২৮ ডলার কিংবা ২০০৮ সালের রেকর্ড ১৪৬ ডলারের কাছাকাছি এখনো পৌঁছায়নি। তবু মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরসিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বৈশ্বিক কৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, এত দিন বাজার বিভিন্ন সংকটের বিকল্প পথ খুঁজে নিতে পেরেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের অন্যতম কারণ তেল পরিবহনের প্রধান নৌপথগুলোতে বাধা সৃষ্টি হওয়া। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথও ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে চাপ আরও বেড়েছে।

আরো পড়ুন: হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন হামলায় বিকল তেলের ট্যাংকার

পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে সামুদ্রিক বিমা সংকটও। ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর নতুন করে টোল আরোপের পরিকল্পনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই টোল পরিশোধ করলে অনেক জাহাজের বিমা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরীয় পাইপলাইন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও চাপে পড়েছে। রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি সীমিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ কমে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে বৈশ্বিক মজুত প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চীন এত দিন নিজস্ব মজুতের ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ কমিয়ে রাখলেও সেই সুবিধা বেশিদিন থাকবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দেশটিকে আবার বড় পরিসরে তেল আমদানি বাড়াতে হবে, যা বৈশ্বিক চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে। আর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিলে সেই দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ডও গড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন হেলিমা ক্রফট।

সূত্র: সিএনএন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত ভবন থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত ভবন থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ: যন্তর মন্তরে মিষ্টি বিতরণ

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ: যন্তর মন্তরে মিষ্টি বিতরণ

ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদেরকে অভিনন্দন নাহিদ ইসলামের

ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদেরকে অভিনন্দন নাহিদ ইসলামের

‘ইমরান হাশমির সঙ্গে কাজ করতে চাই’

অকপট তাসনুভা তিশা ‘ইমরান হাশমির সঙ্গে কাজ করতে চাই’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App