হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন হামলায় বিকল তেলের ট্যাংকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিজান শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। সৌদি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ইয়েমেনের হুদায়দাহ বন্দরনগরী ও কামারান দ্বীপে হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব। এর পরই প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয় হুতিরা।
শনিবার ভোরে টেলিগ্রামে প্রকাশিত আনসারুল্লাহ মিডিয়ার এক বার্তায় হুতিরা দাবি করে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জিজান শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন লেগেছে।
তবে এ হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, হামলার আশঙ্কায় ওই অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
এদিকে, লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সপ্তাহের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি উঠে গেলেও পরে কিছুটা কমে আসে।
আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের ভাড়া করা দুটি সুপার ট্যাংকার নিরাপদে বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম চার ডলারের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৬ ডলারে নেমে আসে।
অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অচল করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, জাহাজটি ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, জাহাজের ক্রুরা একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে ট্যাংকারটি চলাচলের সক্ষমতা হারায় এবং ইরানের দিকে আর এগোতে পারেনি।
চলতি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে পুনর্বহাল করা নিষেধাজ্ঞার পর এটি দ্বিতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ, যেটিকে অচল করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে টানা উত্তেজনার মধ্যেও শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে টানা ১৩ রাত ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ভারত
এদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার তেহরানে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। তবে সমঝোতা হবেই এমন নিশ্চয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে একটি সামরিক চাপ আরও বাড়ানো, অন্যটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো। তার ভাষায়, “আমরা উভয় পরিস্থিতির জন্যই পুরোপুরি প্রস্তুত।”
উল্লেখ্য, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। সেখানে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করার কথা উল্লেখ ছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনার পর আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
