ইরানের দাবি
‘যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার ধ্বংস’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনের সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, হামলায় আরও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে এবং শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৫ জুলাই) আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এসব দাবি করেন। তার ভাষ্য, ৮ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ইরান এসব হামলা চালায়।
মোহেব্বির দাবি, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১৭টি নজরদারি ও অভিযানে ব্যবহৃত ড্রোন, যার আটটি ছিল নতুন। এছাড়া একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী আটটি বিমান ধ্বংস করা হয়েছে। তার দাবি, এসব উড়োজাহাজ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মাটিতে থাকা অবস্থায় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তবে কোন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
আরো পড়ুন: ইন্টারসেপ্টর সংকটে ইরানে হামলা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের হামলায় ৯টি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, পাঁচটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিভিন্ন ধরনের অন্তত ২০টির বেশি সামরিক রাডার, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র হ্যাঙ্গার, ১৭টি অস্ত্রাগার, ১২টি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, তিনটি লজিস্টিকস কেন্দ্র, ছয়টি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, চারটি হিমার্স রকেট লঞ্চার, একটি জ্বালানি জেটি, একটি চালকবিহীন জলযান সংরক্ষণাগার, একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র, চারটি যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, চারটি হেলিকপ্টার এবং ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে হামলা চালানোর পর ইরানের পাল্টা আঘাতে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র যে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে, তা তিনি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলেও দাবি করেন।
মোহেব্বির ভাষ্য, ইরানের বাহিনী মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা আটটি স্থাপনায় হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি স্থাপনার ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা প্রকাশিত নিহতের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে হামলার স্থানগুলোতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে হতাহতের প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়।
আরো পড়ুন: সৌদিতে ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের হামলা, তেল পরিশোধনাগারে ধোঁয়া
সাক্ষাৎকারে মোহেব্বি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য, উপসাগরীয় কোনো দেশ বা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী অন্য যেকোনো দেশ তেহরানের হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। তার দাবি, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান পরিচালিত হয়েছে। লন্ডন যদি ওয়াশিংটনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাজ্যও হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান প্রয়োজনীয় সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তেহরান কঠোর জবাব দেবে।
মোহেব্বির অভিযোগ, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে মার্কিন সামরিক শক্তিকে ব্যবহার করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এ অঞ্চলে সামরিকভাবে জড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। তার দাবি, তেহরান আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে এর পরিণতি সম্পর্কে ইসরায়েল অবগত।
