কেন হরমুজের একক নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্য ওমানের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এর পরিবর্তে তেহরান নিজেদের একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে- হরমুজ প্রণালির একক নিয়ন্ত্রণে ইরানের মূল লক্ষ্য কী?
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক লাভের নয়; বরং কৌশলগত ও সামরিক প্রভাব বিস্তারই তেহরানের প্রধান উদ্দেশ্য।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) গবেষক সাশা ব্রুকম্যান আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর কৌশলগত ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই ইরান একক নিয়ন্ত্রণ চায়।
ব্রুকম্যানের ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে ইরানের দাবির ভাষা পরিবর্তিত হলেও মূল উদ্দেশ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শুরুতে তেহরান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের প্রস্তাব দেয়। পরে সেটিকে ‘সেবা ফি’ এবং বর্তমানে ‘স্বেচ্ছামূলক ফি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তার মতে, এসব প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করা।
তিনি আরও বলেন, ওমানের প্রস্তাবিত ৫০-৫০ যৌথ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ সেই ব্যবস্থায় একটি নৌপথ তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যেত।
ব্রুকম্যানের মতে, ইরানের দৃষ্টিতে এটি এমন একটি লেন, যার ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকত না। বিষয়টি মূলত সামরিক ও নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত; বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রশ্নের সঙ্গে নয়।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। এই নৌপথে প্রভাব বিস্তার করতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা সম্ভব।
ব্রুকম্যান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে পৃথক সমঝোতা গড়ে তোলা এবং ধাপে ধাপে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করাই বর্তমানে ইরানের কৌশলের অংশ।
