নৌপথ সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে সৌদির নতুন জোট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নৌপথ সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে নতুন একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে , ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করার লক্ষ্যে।
জোটভুক্ত দেশগুলোর ভাষ্য, ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই কৌশলগত সমুদ্রপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা এবং জ্বালানি পরিবহণ নিরাপদ রাখাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালীকে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির বড় একটি অংশ আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হলেও সেখানে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলায় বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর হয়ে যাওয়া নৌপথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আরো পড়ুন: কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা
সৌদি আরব জানিয়েছে, জোট গঠনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও। যদিও ইইউর ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ নিরাপত্তা মিশন রয়েছে, নতুন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কার্যক্রম কীভাবে আলাদা হবে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
সৌদি আরব ছাড়াও জোটের সদস্য দেশগুলো হলো তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এখনো এই জোটে যোগ দেয়নি, যদিও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটে দেশ দুটির নিরাপত্তা স্বার্থও অনেকটাই একই ধরনের।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর অন্য দেশগুলোর জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো মনে করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। আন্তঃদেশীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জোটে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ বা বিমান দেবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা, সমন্বিত মহড়া এবং সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সদস্য দেশগুলো একমত হয়েছে।
সৌদি আরব জোর দিয়ে বলেছে, এই জোটের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। জোটটির সদর দপ্তর সৌদি আরবে হবে, তবে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে, যার ফলে লোহিত সাগরমুখী তেল পরিবহণ ব্যাহত হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়লেও সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের তেল শোধনাগার থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহণ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তবে সেই তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালী অতিক্রম করতে হয়। ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও ইয়েমেনের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথের ইয়েমেন অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে জাহাজে হামলার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
