নেপালে হিন্দু ও মুসলিম সংঘাত, নিহত ৩
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের অভিযানের সময় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সার্বিক শান্তি বজায় রাখতে দেশবাসীকে ধীরস্থির ও শান্ত থাকার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গত মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বড় ভাষণে তিনি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং ‘অশান্তির মেঘ সরাতে’ সহায়তা করার আহ্বান জানান।’
আরো পড়ুন: কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভারতীয় সীমান্তের কাছে সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি মিছিল চলাকালে উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা বহনকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।’
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফল জানান, ‘জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হন। এছাড়া কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী সিরাহা জেলায় একটি বিক্ষোভের সময় আরও একজন নিহত হন।’
এদিকে,সহিংসতা যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সুনসারি ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করেছে প্রশাসন।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, সম্মানিত নেতা, রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রতি ধৈর্য, সংযম, শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
আরো পড়ুন: চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান
তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আবি নারায়ণ কাফল বলেন, মাঠপর্যায়ের সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।’
উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু। তবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
