‘রাশিয়ায় তৈরি ক্যানসারের টিকা প্রথম রোগীর শরীরে কার্যকরভাবে কাজ করছে’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় তৈরি ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ প্রয়োগের পর প্রথম রোগীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির গবেষকরা। তাদের দাবি, ভ্যাকসিনটি রোগীর শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানান, ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর দুটি ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য তৈরি পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে প্রথমবারের মতো ‘নিওনকোভ্যাক’ প্রয়োগ করা হয়।
আরো পড়ুন: ভারতে অনুমোদন পেলো ডেঙ্গু টিকা, কারা নিতে পারবেন
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ বলেন, রোগী বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এবং তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোগীর শরীর ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনীয় সক্রিয় ইমিউন উপাদান তৈরি করছে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো সময়জুড়ে তার রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিগতকৃত মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে এসব ভ্যাকসিন প্রয়োগের উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এর আগে এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার মতে, প্রচলিত চিকিৎসার মতো শুধু রোগ নিরাময়ের চেষ্টা না করে এই পদ্ধতি শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষিত করে।
এই প্রযুক্তিতে রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য আলাদা করে এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, যা নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে।
এদিকে রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল লাং ক্যানসারের জন্যও নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আরটি।
