বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, কমেছে আয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে আবারও বেড়েছে সার্বিক মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।
মূলত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তবে একই সময়ে কমেছে মজুরি বৃদ্ধির হার। অর্থাৎ মানুষের ব্যয় বাড়লেও আয়ের বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সেপ্টেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস।
তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় পর্যায়ে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
গ্রাম ও শহরে মূল্যস্ফীতি
বিবিএসের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ এলাকায় শহরের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেশি ছিল। গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।
গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৭ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। আগস্টের ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে এ হার নেমে এসেছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে।
শহর এলাকায় সেপ্টেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এ সময়ে শহরের খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে। বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশে নেমেছে।
কমেছে মজুরি বৃদ্ধির হার
মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। বিবিএসের মজুরি হার সূচক (ডাব্লিউআরআই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগস্টে এ হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ।
খাতভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ।
সারা দেশের ৬৪ জেলার ১৪৩টি হাট-বাজার থেকে সংগৃহীত উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব পরিসংখ্যান তৈরি করেছে বিবিএস।
