সরকারকে যে তথ্য দিল গোয়েন্দারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদ এবং অপরাধীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। এসব ঘটনা সামনে আরও বড় ধরনের সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে সতর্ক রয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযান জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ক্ষমতার পালাবদল ও রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও দখলদারি এবং আধিপত্য বিস্তারে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের পুরোনো কৌশল পুরোপুরি বদলায়নি। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং পুরোনো বিরোধকে কাজে লাগিয়ে তারা নেপথ্যে থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গত কয়েক দিনে সংঘটিত কয়েকটি হামলার ঘটনায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম আলোচনায় এলেও এসব ঘটনার পেছনে পুরোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতীতে পরিচালিত বড় ধরনের অভিযানের আদলে কোনো অভিযান চালানো যায় কি না, তা নিয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে যেতে হতে পারে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং ইন্ধনদাতাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের নাম আসছে, তাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতারে পোশাকধারী পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযান আরও জোরদার করা হবে। নতুন করে যেসব অপরাধী সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেন, সাম্প্রতিক অপরাধমূলক ঘটনাগুলো কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ঘটাচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বের করা জরুরি। প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা হতে পারে এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
