সেউতায় মৃত্যুর মিছিল, মরক্কোতে ফিরছেন অভিবাসীরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউতায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢলের মধ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রমের সময় পানিতে ডুবে মারা গেছেন। কয়েকজন পদদলিত হয়েও প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) মরক্কোর সীমান্তঘেঁষা ফনিদেক এলাকা থেকে সাগরপথে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পর তাদের বড় একটি অংশ আবার মরক্কোতে ফিরে যেতে শুরু করেছেন। খবর রয়টার্সের।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কোতে ফিরে গেছেন। বাকি ব্যক্তিদেরও দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মরক্কো উপকূলজুড়ে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। একইভাবে সেউতা সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে স্পেনও। দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ার পর থেকেই নতুন করে অভিবাসীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
আরো পড়ুন: ভয়ংকর হচ্ছে এল নিনো, বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ-খরা-বন্যার শঙ্কা
সেউতা ও মেলিলা ভূমধ্যসাগর উপকূলে অবস্থিত স্পেনের দুটি ছিটমহল, যা আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসংযোগ। উন্নত জীবনের আশায় বহু অভিবাসনপ্রত্যাশী নিয়মিত এই সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। মরক্কোর ফনিদেক থেকে সেউতায় পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সাঁতার কাটতে হয়। অনেকে অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের বেলইউনেশ উপকূল দিয়েও সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। সীমান্তে এভাবে প্রবেশের ঘটনাকে তিনি স্পেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
স্পেন সরকার মনে করছে, দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়কে কেন্দ্র করে মানবপাচারকারী চক্র বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অভিবাসীদের প্ররোচিত করেছে। আদালতের রায়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগ রয়েছে, এমন গুজব ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ করেন সানচেজ।
তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, অধিকাংশ অভিবাসী ওই আদালতের রায় সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তাই এই ঢলের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।
এদিকে সেউতা থেকে ফিরে আসা অনেক অভিবাসী জানিয়েছেন, সেখানে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সংকট ছিল। মরক্কোর তরুণ আয়মান বলেন, স্পেনে পৌঁছানোর পরও তারা খাবার পাননি। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই সাঁতরে মরক্কোতে ফিরে আসেন।
