×

আন্তর্জাতিক

ভয়ংকর হচ্ছে এল নিনো, বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ-খরা-বন্যার শঙ্কা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২ এএম

ভয়ংকর হচ্ছে এল নিনো, বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ-খরা-বন্যার শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যাসহ চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব মিলিত হয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত ডব্লিউএমওর সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। খবর আলজাজিরার।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভয়াবহ দাবানলের মুখোমুখি এবং দক্ষিণ এশিয়ার বহু এলাকায় মৌসুমি বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এল নিনো এখন আর শুধু আসন্ন কোনো ঝুঁকি নয়, এটি ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলছে। তিনি জানান, পৃথিবী আগে থেকেই উত্তপ্ত ছিল, এল নিনো সেই পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলছে।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আরো বাড়বে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া বৃদ্ধি পাওয়ায় দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সম্ভাবনাও বাড়ছে।

আরো পড়ুন : স্পেন ও ফ্রান্সে দাবানলের তাণ্ডব, ঘরছাড়া ৩ লক্ষাধিক মানুষ

গুতেরেস জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে। তার মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারই বর্তমান জলবায়ু সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা এবং তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো বলেন, শুধু আগাম সতর্কবার্তা দিলেই হবে না, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় সরকার ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, আজ নেওয়া সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা নির্ধারণ করবে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছাতে পারে। যদিও এর তীব্রতা নিয়ে কম্পিউটারভিত্তিক পূর্বাভাসে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সেউতায় মৃত্যুর মিছিল, মরক্কোতে ফিরছেন অভিবাসীরা

সেউতায় মৃত্যুর মিছিল, মরক্কোতে ফিরছেন অভিবাসীরা

তীব্র বিরোধিতার মুখে বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল ফিফার

তীব্র বিরোধিতার মুখে বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল ফিফার

আজ থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

আজ থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

আজ যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে

আজ যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App