আবারো ভূমিকম্পে কাপলো ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৩৮
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় একই দিনে পরপর দুবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভোরে ৭.৭ মাত্রার প্রথম কম্পনের কিছুক্ষণ পরেই ৬.৪ মাত্রার দ্বিতীয় ভূকম্পনটি অনুভূত হয়। জোড়া এই ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এই জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। এদিকে সকালের ভূমিকম্পটি তেনেগ্গারা প্রদেশের পূর্ব নুসার ফ্লোরেস দ্বীপে এবং দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তার শহরে আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ছিলো বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটের দিকে উত্তর সুমাত্রার ওই এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়।
আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৫
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পটির প্রভাব স্থানীয়ভাবে অনুভূত হলেও ওই এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে এর আগে ভোরে হওয়া আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। ভিডিওগুলোতে কয়েকটি ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়ার পাশাপাশি আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে দেখা যায়।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা শহরের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভূমিকম্পে শহরের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। কম্পনের সময় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। তিনি নিজ চোখে বন্দর এলাকার একটি ভবন ধসে পড়তে দেখেছেন বলেও জানান।
প্রদেশটির গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানান, কয়েকজন মানুষ ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে মাংগারাই প্রদেশকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে।
