কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: একই পরিবারর চার জনের মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ওপারে ঘুরতে গিয়ে আর নিজ দেশে ফেরা হলো না তাদের। ভারতের কলকাতার এক আবাসিক হোটেলে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ৯ জন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চান রয়েছে। তারা সবাই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত প্রায় ২টায় নগরীর নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনের তিন তলায় আগুন লাগে। এ সময় মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের ভবনগুলোতে আগুণ ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, হোটেলের অতিথিরা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
নিহতরা হলেন- সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত (৩৯), স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭), ছেলে শর্ণশিষ দত্ত (২.৬ বছর), নানা আকরাম আলী।
নিহত দেবাশিস দত্ত কুষ্টিয়া মডেল থানার মোহিনী মিল এলাকার আরুয়াপাড়ার বাসিন্দা এবং দিলীপ কুমার দত্তের ছেলে। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো তার নানা শ্বশুর আকরাম আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া হেড পোস্ট অফিস এলাকার বদরুদ্দোজা রোডে।
এদিকে, নিহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া বাকি ২ জন হলেন- আহামেদ বাবু ও সন্দীপ পাসওয়ান। নিহত আহামেদ বাবুর বাড়ি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়িতে। তার বাবার নাম আদম আলী। ভ্রমণ গাইড ও ট্রাভেলগ পড়া ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ান ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা। অপর তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের সময় ওই হোটেলে ২৫ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহতরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের তিন তলায় রাত ২টা ৭ মিনিটে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় হোটেলের বাসিন্দাদের। আগুন দ্রুত আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের কক্ষগুলো ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। এতে হোটেলের বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা। অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
আরো পড়ুন: কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় জানা গেল
রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর পাশাপাশি একটি বিপর্যয় মোকাবিলা দলও (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম) উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। দমকলকর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে হোটেলের একাংশ পুড়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, হোটেলটিতে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ একটি মামলা করেছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীরা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাদের খুঁজছে।
উদ্ধার অভিযানে গিয়ে ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোটেলের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের কারণে এই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গুরুতর আহত ৬ জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।
