ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফেরা ১৪ বাংলাদেশির মানবেতর রাত
শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া ১৪ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও কিশোর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানা পুলিশের সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকারভিত্তিক বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কাছে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়।
তবে রাতভর বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে তাঁদের অবস্থান করতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে পাঞ্জাবের অমৃতসর সেন্ট্রাল কারাগারে তিন বছর সাজাভোগ শেষে আদালতের নির্দেশে বিভিন্ন সেফ হোমে পাঠানো হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই দেশের সরকারের সমন্বয়ে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা বলেন, উন্নত জীবনের আশায় দালালদের প্ররোচনায় পড়ে তাঁরা সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারতে যান। পরে ভারতীয় পুলিশ তাঁদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সেফ হোমে পাঠায়। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থানের পর দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফেরানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের ইমিগ্রেশন ব্যুরোর অধীন হরিদাসপুর আইসিপি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের আওতায় এসব বাংলাদেশিকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। পরে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার জন্য তাঁদের বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঠানো হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনগত কার্যক্রম শেষে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের স্বেচ্ছাসেবক শাফিকুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম শেষে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার নাসিরকুল রাজারকুল গ্রামের আবু শাকার (৩৮), সুনামগঞ্জ জেলার জাউয়াবাজার এলাকার আলা উদ্দিন (৩৯), ছাতক উপজেলার জমির আলী (২২), খালেদ হোসেন (১৭), ময়না বেগম (৪৪), ছানুর আলী (৫৬), রাজনা বেগম (২৬), মিনহাজ মিয়া (১৭), ইসমাইল হোসেন (১৮), মোহাম্মদ তামিম (২৪), মোহাম্মদ ফাহিম (১১), নাজমিন আক্তার (১৯), বাদশা মিয়া (২৫) এবং যশোরের কেশবপুর উপজেলার মোস্তফা কামাল (৩৭)।
