সিলেটে ভবন নির্মাণে সিউকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
ফাইল ছবি
সিলেট মহানগর ও সংলগ্ন এলাকায় ভবন নির্মাণ, সম্প্রসারণ কিংবা কোনো ধরনের পরিবর্তন করতে হলে এখন থেকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) পূর্বানুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে ভূমি ব্যবহার, জলাধার খনন ও পুনঃখননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সিউকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।এর আগে সিলেট নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হতো। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হলো সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন।
বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী এ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল নগরায়ণ এবং পরিবেশবান্ধব সিলেট গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদী সরকারের নীতির অভাবে কৃষি-মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: শামা ওবায়েদ
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিলেট মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় পরিকল্পিত উন্নয়ন, সুশৃঙ্খল নগরায়ণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রচলিত আইন, বিধি ও বিধিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ অনুযায়ী ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন এবং জলাধার খনন বা পুনঃখননের জন্য সিউকের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।
এ ছাড়া ইমারত নির্মাণ আইন-১৯৫২, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড-২০২০ অনুসরণ করে সিউকের আওতাধীন এলাকায় ভূমি জরিপ, মাটি পরীক্ষা এবং ভবনের স্থাপত্য, কাঠামো, বৈদ্যুতিক ও পানি-নিষ্কাশন সংক্রান্ত নকশা প্রণয়ন করতে হবে।এসব নকশা সিউকের তালিকাভুক্ত স্থপতি, প্রকৌশলী বা নকশাকারকের মাধ্যমে প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য আবেদন দাখিল করতে হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০-এর ৫ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আবাসন প্রতিষ্ঠানকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নিতে হবে।
সিউকের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ, সম্প্রসারণ বা পরিবর্তন করা যাবে না। পাশাপাশি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ীই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া অবৈধ দখল, ভূমি বা জলাধার ভরাট এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়, আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৩-এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এর আওতাভুক্ত কোনো বিষয়ে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমতির মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রম অকার্যকর ও অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে।
