গবেষণা
‘একটানা ৩০ মিনিটের বেশি বসে থাকলেই ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা শুধু হৃদ্রোগই নয়, ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকিও বাড়াতে পারে-এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন গবেষকরা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ৯১ হাজারের বেশি মানুষের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, প্রতিদিন একটানা ৩০ মিনিটের বেশি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় (বসে বা শুয়ে) থাকলে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এমনকি প্রতিদিন এই ধরনের নিষ্ক্রিয় সময় এক ঘণ্টা করে বাড়লে ঝুঁকি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
তবে সুখবর হলো, প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর উঠে সামান্য হাঁটা কিংবা ঘরের হালকা কাজ করার মতো সহজ অভ্যাসও এই ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছে নতুন এক গবেষণা।
অফিসে কাজের ফাঁকে আধা ঘণ্টা পরপর উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করাও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
গবেষকদলের প্রধান, ‘যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফ্রেডেরিক হো বলেন, আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা ৩০ মিনিটের বেশি বসে থাকা বিশেষভাবে ক্যানসারে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে সুখবর হলো, অল্প সময়ের হাঁটার মতো সহজ শারীরিক নড়াচড়াও এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় মাঝারি বা উচ্চমাত্রার ব্যায়ামের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
কিন্তু আমাদের ফলাফল দেখাচ্ছে, হালকা শারীরিক নড়াচড়াকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে সবার জন্য একই ধরনের পরামর্শের বদলে ব্যক্তিভিত্তিক কৌশল তৈরি করা সম্ভব হবে।’
প্লস মেডিসিন (PLOS Medicine) সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয় আচরণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আগে থেকেই জানা ছিল, দীর্ঘ সময় বসে বা শুয়ে থাকা হৃদ্রোগ এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে এই নিষ্ক্রিয় সময় কীভাবে জমা হয়, সেটিও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে কি না, সেই বিষয়টি নিয়ে এতদিন তুলনামূলকভাবে কম গবেষণা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় বসে থাকার বদলে হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ড করলে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমতে পারে। উপকারী কর্মকাণ্ডের মধ্যে ধীরগতিতে হাঁটা, ঘরের কাজ, কাপড় ইস্ত্রি করা বা বাসন ধোয়ার মতো কাজও রয়েছে।
গবেষকরা ইউকে বায়োব্যাংক-এর ৯১ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর পরিধানযোগ্য ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গড়ে ১২ বছর ধরে তাদের অনুসরণ করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিদিন এক ঘণ্টা দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তা কমিয়ে একই সময় হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করলে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি ১২ শতাংশ কমে। আবার প্রতিদিন ৩০ মিনিট নিষ্ক্রিয় থাকার পরিবর্তে ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলে ঝুঁকি ৮ শতাংশ কমতে পারে।
আর প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট নিষ্ক্রিয় থাকার পরিবর্তে পাঁচ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করলে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা হওয়ায় সরাসরি কারণ-ফলাফল সম্পর্ক নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকা ওপেন ইউনিভার্সিটির ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক কেভিন ম্যাককনওয়ে বলেন, ফলাফলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরো বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, একটানা শুয়ে-বসে না থেকে আমাদের উচিত নড়াচড়া অব্যাহত রাখা। জীবনকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে কায়িক পরিশ্রম জরুরি। একটানা শুয়ে-বসে থাকা বা কায়িক পরিশ্রমের অভাব আমাদের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা ডেকে আনে। সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকার জন্য দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক নড়াচড়া ও ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে যেসব বড় উপকার পাওয়া যায়:
ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে: নিয়মিত নড়াচড়া ক্যালোরি ঝরাতে সাহায্য করে, যা মেদ জমতে দেয় না।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে: কায়িক পরিশ্রম রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে: ব্যায়ামের ফলে শরীরে 'এন্ডোরফিন' নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা দূর করতে সাহায্য করে।
হাড় ও পেশী শক্তিশালী হয়: নিয়মিত হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়াম হাড়ের ক্ষয় রোধ করে এবং পেশীকে সুগঠিত রাখে।
