হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার থেকে আগুন, দগ্ধ চালক
পুড়েছে ৮ মোটরসাইকেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ফটকের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগে চালক দগ্ধ হয়েছেন। ছড়িয়ে পড়া আগুনে পাশে থাকা আরও আটটি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঢুকে পড়লেও রোগী বা হাসপাতালের অবকাঠামোর বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোগী নেওয়ার জন্য একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল চত্বরে আসে। রোগী ওঠার আগেই হঠাৎ বিকট শব্দে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পাশে থাকা আটটি মোটরসাইকেলেও আগুন ধরে যায়। এতে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে একটি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক কর্মীর, একটি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) এবং বাকিগুলো হাসপাতালে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের বলে জানা গেছে।
আরো পড়ুন: মহিষ চরাতেও দিতে হয় ২০০ টাকা চাঁদা
প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদুল ইসলাম বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর দুটি মোটরসাইকেলসহ অন্তত আটটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন লাগার পর বেশ কয়েকবার বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বাগেরহাট কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলা একটার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার, সিভিল সার্জন মো. মাহবুবুল আলমসহ সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, আগুনের ধোঁয়া বহির্বিভাগে প্রবেশ করলেও রোগী বা হাসপাতালের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে কোনো যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন মো. মাহবুবুল আলম বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে মূল হাসপাতাল ভবন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। দগ্ধ অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুরোনো অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের মেয়াদ এবং গাড়ির ফিটনেস নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, হাসপাতালটি বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার স্থান এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
