মহিষ চরাতেও দিতে হয় ২০০ টাকা চাঁদা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লালচর এলাকায় খাসজমিতে মহিষ চরানোর জন্য প্রতিটি মহিষের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মাঈনউদ্দিন (২৭) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় মহিষ পালনকারীদের অভিযোগ, লালচরের খাসজমিতে মহিষ চরাতে হলে প্রতিটির জন্য ২০০ টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
মহিষ পালনকারী রেজাউল খাঁ বলেন, আগে লালচরের খাসজমিতে কোনো বাধা ছাড়াই মহিষ চরানো হতো। সম্প্রতি মাঈনউদ্দিন তাদের জানিয়েছেন, প্রতিটি মহিষের জন্য ২০০ টাকা না দিলে সেখানে মহিষ চরাতে দেওয়া হবে না। পরে বাধ্য হয়ে অনেকেই টাকা দিয়েছেন। এভাবে ৪৭৮টি মহিষের বিপরীতে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক মহিষ পালনকারী ইদ্রিস দালাল বলেন, চরাঞ্চলের খাসজমিতে জন্মানো ঘাসের ওপর নির্ভর করেই তারা দীর্ঘদিন ধরে মহিষ পালন করছেন। এভাবে টাকা দিতে হলে তাদের ব্যয় বেড়ে যাবে এবং মহিষ পালন করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, লালচরের খাসজমিতে মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় আলোচিত হচ্ছে। খাসজমিতে মহিষ চরানোর জন্য এভাবে টাকা আদায়ের আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাঈনউদ্দিন। তিনি বলেন, তিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নিয়েছেন।
মাঈনউদ্দিনের দাবি, মাছ ধরার ‘চাই’ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় জরিমানা হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছে। এমনকি নিজের মহিষের জন্যও তাকে জরিমানা দিতে হয়েছে। বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মোস্তফা ফকির ও জামাল মাঝি সালিশের দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অনুরোধেই তিনি সাময়িকভাবে টাকা নিজের কাছে রেখেছেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
