×

খুলনা

আমনের ভরা মৌসুমে সার সংকট, দামও বাড়তি

Icon

এস আর সেলিম, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

আমনের ভরা মৌসুমে সার সংকট, দামও বাড়তি

ছবি: আমনের চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আমনের ভরা মৌসুমকে কেন্দ্র করে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। চারা উত্তোলন ও রোপণে এখন ব্যস্ত কৃষকরা, কিন্তু সার না পাওয়ায় দোকান দোকান ঘুরতে হচ্ছে তাদের। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সারের দামও বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।

কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ দিতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। নিরুপায় হয়ে কৃষকরা আমন চাষে অতিরিক্ত খরচ মেটাতে বাধ্য হলেও ত্রিমুখী সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। তাদের কারসাজিতে দিনের বেলায় সার নেই বলে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও রাতের আঁধারে বেশি দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২৭ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে। একইভাবে টিএসপি ২৭ টাকার পরিবর্তে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, ডিএপি ২১ টাকার পরিবর্তে প্রায় ৪০ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকার পরিবর্তে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: মক্কা চুক্তিতে কী আছে, বাংলাদেশের আগ্রহের কারণ কী?

এদিকে সংকটের সুযোগে কালোবাজারিদের ভেজাল সারের কারবার বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা পরিষদের পার্শ্ববর্তী সাদিপুর এলাকার কৃষক তৌফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জমিতে সার দেওয়ার পরও আগের মতো কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে না। সারে ভেজাল রয়েছে। ১০ কেজির জায়গায় ২০ কেজি সার দিলেও কাজ হচ্ছে না। আবার সারও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।

সাদিপুর এলাকার আরেক কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'ঠিকমতো সার পাচ্ছি না। দোকানে গেলে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকবার ঘোরার পর সার পেলেও চাহিদামতো দেওয়া হচ্ছে না, কিন্তু দাম নেওয়া হচ্ছে বেশি। অনেক সময় সরকারি মূল্যে সার না দেওয়ার জন্য দোকান বন্ধ রেখে রাতের অন্ধকারে তা বেশি দামে বিক্রি করা হয়।'

কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপণে শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরির পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ দিতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। বৈদ্যুতিক মোটর ও শ্যালো মেশিন- দুই দিকেই খরচ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার আমন উৎপাদন ব্যয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। এর মধ্যে আবার বেশি দামে সার কিনতে হওয়ায় আমনে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

সবকিছুর আগে বিদ্যুৎ ও সারের ওপর সরকারকে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আলম হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, 'কৃষক কার্ড দরকার হবে না, ফ্যামিলি কার্ড দরকার হবে না এবং মসজিদ-মন্দিরের লোকজনের ভাতার কার্ডও দরকার হবে না। এগুলো কেউ চায়ওনি। শুধু বিদ্যুৎ ও সার- এই দুইটি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারের ভর্তুকি বাড়াতে হবে। তাহলে সব ধরনের উৎপাদন স্বাভাবিক থাকবে এবং দামও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। কার্ডের বদলে এতেই সবাই উপকৃত হবেন।'

খুচরা বিক্রেতারা বেশি মূল্যে সার বিক্রির দায় চাপাচ্ছেন ডিলারদের ওপর। তাদের দাবি, পেঁয়াজ ওঠার পর থেকেই ডিলাররা সার সংকট দেখিয়ে প্রতি বস্তায় সরকারি মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে বাড়তি দামে সার সংগ্রহ করতে হওয়ায় তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। 

তবে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলাররা। তাদের দাবি, তারা সীমিত লাভে সার বিক্রি করছেন। ডিলারদের ভাষ্যমতে, প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ২৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ২৫০ টাকা, ডিএপি ৯৫০ টাকা এবং এমওপি ৯০০ টাকা। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা পরিবহন খরচ দেওয়া হয়। খুচরা বিক্রেতারা অনেক সময় কৃষকদের বাকিতে সার দেন এবং ৬-৭ মাস পর টাকা আদায় করেন। এ কারণে তাদের কিছুটা বেশি দামে সার বিক্রি করতে হয় বলে মনে করছেন ডিলাররা। 

পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দাবি করলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি বিভাগের অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, এখানকার চাহিদার তুলনায় অনেক সময় কম পরিমাণ সার বরাদ্দ আসে। ফলে ডিলারদের বাইরে থেকে সার সংগ্রহ করতে হয় এবং এতে বাড়তি খরচ হওয়ায় দাম বেড়ে যেতে পারে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলায় ১৯ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হচ্ছে। এই মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভিন সাংবাদিকদের জানান, ইউরিয়াসহ অন্যান্য সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সার সংকটের বিষয়ে কোনো কৃষক লিখিত বা সরাসরি অভিযোগ করেননি। কৃষকরা যাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তাদের চাহিদামতো সার পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২ হাজার ৯০০ জন প্রান্তিক কৃষককে আমন চাষের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাশিয়ায় কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আগুন, নিহত ১৫

রাশিয়ায় কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আগুন, নিহত ১৫

আলজেরিয়ায় দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু, উদ্ধারকাজ অব্যাহত

আলজেরিয়ায় দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু, উদ্ধারকাজ অব্যাহত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন তিনজন, ৬৪ জেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে মন্দ হতো না

রুমিন ফারহানা পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন তিনজন, ৬৪ জেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে মন্দ হতো না

এক ডেগে ১০১ মণ চালের খিচুড়ি

মানিকগঞ্জের জাবরা দরবারে অনন্য আয়োজন এক ডেগে ১০১ মণ চালের খিচুড়ি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App