আদালতে হাজির করা হবে টুকু, পলক ও সৈকতকে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৫:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রিকশাচালক হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতকে আদালতে হাজির করা হবে। রবিবার (২৫ আগস্ট) ১০ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। তাদের অন্য মামলায়ও আরো রিমান্ড চাওয়া হতে পারে বলে আদালত সুত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত বুধবার (১৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর এ তিন নেতাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলম তাদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর পল্টন থানা এলাকায় গুলিতে নিহত হন রিকশাচালক কামাল মিয়া (৩৯)। এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে ২০ জুলাই একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৩৬)।
আরো পড়ুন: চিত্রনায়ক জায়েদ খান-জয়-সাজু খাদেমসহ আসামি ৫০
মামলার এজাহারে বাদী ফাতেমা খাতুন উল্লেখ করেন, আমার স্বামী কামাল মিয়া (৩৯) পেশায় একজন রিকশাচালক। গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানতে পারি আমার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় পল্টন মডেল থানার বটতলা গলির মুখে পড়ে আছেন। তখন আমি ও আমার মেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার স্বামীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলের স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ওই স্থানে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে। তখন কাকরাইল থেকে পল্টন থানায় আসার পথে একজন পুলিশকে দুষ্কৃতকারীরা আটক করে মারধর করে। তার কাছে থাকা সরকারি পিস্তল ও গুলি, ওয়ারলেস সেট, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ নিয়ে যায় এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। তখন পল্টন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দুষ্কৃতকারীদের ধাওয়া করে।
এ সময় দুষ্কৃতকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশ ও দুষ্কৃতকারীদের ধাওয়াপাল্টা-ধাওয়ার মধ্যে পড়েন রিকশাচালক কামাল মিয়া। একপর্যায়ে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে আহত হন কামাল মিয়া।
