‘স্মৃতি শক্তিহীন’ তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদসহ দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত ১৯ এপ্রিল এ আদেশ দেন ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ।
পরোয়ানাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোশারফ হোসেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। এদিন তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতকে জানান, তার মক্কেল গুরুতর অসুস্থ। তিনি কাউকে চিনতে পারেন না এবং তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে হাজির হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে শারীরিকভাবে অক্ষম। এ অবস্থায় তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষা এবং অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর আবেদন করা হয়।
তবে দুদকের পক্ষ থেকে এ আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। বলা হয়, আসামি পলাতক থাকাবস্থায় এমন আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাকে আদালতে হাজির হয়ে আবেদন করতে হবে। শুনানি শেষে আদালত তোফায়েল আহমেদের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার (৭ মে) অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
আরো পড়ুন : হাসিনা-কাদেরসহ ২৬২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম এ মামলা দায়ের করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ গোপন করতে সহযোগীদের মাধ্যমে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, সহআসামি মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম ও মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয় এবং পরে তা উত্তোলন করা হয়।
তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানান, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। পলাতক থাকায় গত ১৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তিন আসামির মধ্যে মোশারফ হোসেন জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
