চিফ প্রসিকিউটর
ইনুর রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই, উচ্চ আদালতে যাব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। একই সঙ্গে সাজা বৃদ্ধির আবেদনও করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দিয়েছেন। প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। তবে এই রায়ে প্রসিকিউশন সন্তুষ্ট নয় বলে জানান তিনি।
আমিনুল ইসলামের দাবি, প্রসিকিউশন আটটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ১৪-দলীয় জোটের এক বৈঠকে কারফিউ জারি, ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলন দমনে নেওয়া পদক্ষেপে ইনু একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। জোটের শরিক দলের নেতা হিসেবে তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া, একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলেও দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর একাধিক ফোনালাপে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থনের বিষয়ও উঠে এসেছে বলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত এবং অন্যান্য উপস্থাপিত প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এমনকি সাফাই সাক্ষ্যে দেওয়া লিখিত বক্তব্যেও ইনু কিছু বিষয় স্বীকার করেছিলেন বলে তাঁর দাবি। এরপরও বাকি অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হওয়ায় প্রসিকিউশন বিস্মিত।
তিনি আরো বলেন, ইনুর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা তাদের দৃষ্টিতে যথেষ্ট নয়। প্রসিকিউশনের মতে, সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে এবং একই সঙ্গে তিনটি অভিযোগে দেওয়া সাজা বৃদ্ধির আবেদনও জানানো হবে।
