×

আইন-বিচার

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় যেদিন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় যেদিন

হাইকোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ টানা তিন দিনের শুনানি শেষে রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। তখন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

গত ৩ নভেম্বর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। রিটকারী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া আপিলটি করেন। এতে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিলের আবেদন জানানো হয়।

আরো পড়ুন : সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী : অসাংবিধানিক ঘোষণার আর্জি রিটকারী পক্ষের

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহালের নির্দেশ দেন আদালত। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়নি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং তা বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা তৈরি হয়নি, যার পরিণতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।

আদালত আরো বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করা হয়। আদালতের মতে, এসব অনুচ্ছেদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তথা গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৪টি স্থানে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

তবে আদালত স্পষ্ট করেন, পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ আইন অনুযায়ী জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতি এবং ২৬ মার্চের ভাষণসংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে।

গণভোট প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়েছিল, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারা বাতিল করে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।

এ ছাড়া বাতিল হওয়া ৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল বা স্থগিত করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ ছিল এবং ৭খ অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধন অযোগ্য করার বিধান ছিল। অন্যদিকে ৪৪(২) অনুচ্ছেদে সংসদকে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে অন্য আদালতকে মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। আদালত এ ধারাটিও বাতিল ঘোষণা করেন।

এর আগে গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের বেঞ্চ সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের করা রিটের শুনানি নিয়ে এ রুল দেন।

পরে ওই রুলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম এবং আরো চার আবেদনকারী ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়, জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয় এবং সংবিধানের আরো বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শনিবার ঢামেক হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

শনিবার ঢামেক হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের সব মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা

দেশের সব মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

চীনে পাহাড় ধসে ২১ জনের মৃত্যু

চীনে পাহাড় ধসে ২১ জনের মৃত্যু

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App