মানবতাবিরোধী অপরাধ
মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট মামলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি ও দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আগামী ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার মধ্যে তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে বর্তমানে মিলিটারি পুলিশের হেফাজতে থাকা মোজাফফর হোসেনকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ১/১১-এর অন্যতম কুশীলব হিসেবে অভিযুক্ত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা ‘জন ডো’ ছদ্মনামের এক ব্যক্তির সন্ধান পায়। পরে যাচাই-বাছাই করে জানা যায়, ওই ব্যক্তি আসলে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন।
আরো পড়ুন: হুথিদের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে সৌদি তেল সরবরাহে নতুন শঙ্কা
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় গ্রেফতারের পর তদন্ত চলাকালে তার ব্যক্তিগত সহকারীর কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে ‘জন ডো’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি ভুয়া পরিচয় ছিল এবং এর আড়ালে ছিলেন মোজাফফর হোসেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, গত ১৬ বছরে বিভিন্ন সময়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মোজাফফর হোসেনের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। এ সময় মোজাফফর একাধিকবার পার্শ্ববর্তী দেশে যাতায়াত করেছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। একজন পলাতক আসামির সঙ্গে কর্মরত একজন কর্মকর্তার যোগাযোগ এবং তৎকালীন সরকারের সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সম্পর্কের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
কেন মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে আনা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ১/১১ থেকে শুরু করে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য তদন্তে মিলেছে। ওই সময়ে মোজাফফরের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে মোজাফফরের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের স্বার্থেই তাকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে হাজির করার আবেদন করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ি নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করার পর মোজাফফরকে গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একই সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে দুজনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।
এর আগে গত সোমবার রাজধানীর পিলখানায় এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতারের পর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার হবে।
একই বিষয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সামরিক আদালতের বিচার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, সেটির বিচার সেনা আইনে হবে। অন্যদিকে, গত ১৬ বছরে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সময় তার ভূমিকা ছিল কি না, তা ট্রাইব্যুনালের তদন্তের বিষয়।
সামরিক আদালতে বিচার আগে শেষ হয়ে গেলে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের ওপর তার কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন অপরাধে পৃথক আইনের আওতায় একাধিক আদালতে বিচার চলতে পারে। যে মামলার বিচার আগে নিষ্পত্তি হবে, সেটি সেখানেই শেষ হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিন ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
