কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ দেবে সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি, ডেইরি ও পোল্ট্রি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হিমাগার নির্মাণসহ কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমেও এ ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।
দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা. ফরিদা ইয়াসমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা সুসংহত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যেই এ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের আলাদা পে-স্কেল দেওয়া হবে
সংসদে দেওয়া তথ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ঋণের আওতায় পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম স্থাপনের পাশাপাশি গুদামজাত ও হিমাগারে সংরক্ষিত কৃষিপণ্যের বিপরীতেও নিয়ম অনুযায়ী ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে।
তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হিমাগারসহ কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে গত ৬ জুলাই জারি করা এসিডি-১ সার্কুলার নম্বর-২-এর মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।
এই তহবিলের আওতায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিমাগার নির্মাণের পাশাপাশি শস্য ও ফসল উৎপাদন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচযন্ত্রপাতি এবং আয় উৎসারী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ- পুরো মূল্য শৃঙ্খলকে সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সম্পত্তি হস্তান্তর বিল শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর দাবি
এদিকে দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৮ জুন জারি করা এসিডি সার্কুলার নম্বর-০১-এর মাধ্যমে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে পল্লী ঋণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, এসব পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের কার্যকর ব্যবহার কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা সুসংহত করতেও এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
