বাব আল-মানদেব সংকট
হুথিদের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে সৌদি তেল সরবরাহে নতুন শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। লোহিত সাগরে হুথিদের নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কারণে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতেও প্রভাব পড়েছে। খবর আল-জাজিরার
এদিকে, বাব আল-মানদেব প্রণালি সচল করতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান বা বোমা হামলা হুথি ও সৌদি আরবের চলমান সংকটের কার্যকর সমাধান হবে না বলে মত দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাইকেল স্টিফেনস।
আরো পড়ুন: মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ফেলো স্টিফেনস বলেন, “বোমা হামলা চালিয়ে বাব আল-মানদেবকে পুরোপুরি নিরাপদ করা সম্ভব বলে আমি মনে করি না। যদি সেটি সম্ভব হতো, তাহলে হরমুজ প্রণালিতেও বর্তমান অচলাবস্থার সৃষ্টি হতো না। একই ধরনের পরিস্থিতি বাব আল-মানদেবেও দেখা দিতে পারে, যা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।”
তার মতে, বাব আল-মানদেব দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুথি ঘোষণার ফলে সৌদি আরবের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’-এর কার্যকারিতা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু টার্মিনাল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি তেল সরবরাহ করা হয়।
স্টিফেনসের ভাষ্য, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল পশ্চিমা ও এশীয় দেশগুলোর চাপ এখন আরও বাড়বে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আপনি যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প হন এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারে নামিয়ে আনতে চান, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি বাস্তবসম্মত নয়।”
তিনি আরো বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর অনেক দেশ তাদের কৌশলগত তেলের মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করেছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকট দেখা দিলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় চাপের মুখে পড়তে পারে।
