একটি দলকে ৩ মাসের মধ্যে নিবন্ধনের নির্দেশ হাইকোর্টের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ পিপলস লীগকে আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেও অনুমোদন না পাওয়ায় বাংলাদেশ পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট দেওয়া এক রায়ে আদালত নির্বাচন কমিশনকে দলটির বিষয়ে পুনরায় তদন্ত (রি-ইনকোয়ারি) করার নির্দেশ দেন।
তবে চলতি বছরের জুন মাসে আদালতে দাখিল করা নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় বলা হয়, বাংলাদেশ পিপলস লীগ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮-এর নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
ইসির মাঠপর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দলটির দাখিল করা সাতটি জেলা কার্যালয়ের মধ্যে মাত্র তিনটির এবং ৩১টি উপজেলা কার্যালয়ের মধ্যে ১৮টির অস্তিত্ব ও কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়ায় কমিশন আবেদনটি অনুমোদন করেনি।
রায় ঘোষণার পর দলের চেয়ারম্যান গরিব নেওয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, আদালত নির্বাচন কমিশনকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ পিপলস লীগকে নিবন্ধন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে ডা. আলীম আল রাজীর নেতৃত্বে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আইন কার্যকর হওয়ার পর ২০১২ সালে তারা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। হাইকোর্ট পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরও অন্যায্যভাবে তাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যোগ্যতা কম থাকা কয়েকটি দল নিবন্ধন পেলেও তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে রিট করলে আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন।
দলের মহাসচিব ও রিট আবেদনকারী সৈয়দ মাহবুব হোসেন বলেন, ২০১২ সালে আবেদন করার সময় তাদের ৮৩টি উপজেলা এবং ১৮টি জেলা কার্যালয় ছিল। যদিও নিবন্ধনের জন্য ১০০টি উপজেলা ও ২১টি জেলা কার্যালয় প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পুনঃতদন্তের আবেদন গ্রহণ করা হলেও তাদের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্ত শেষে ১০১টি উপজেলা ও ২১টি জেলা কার্যালয়ের শর্ত পূরণ হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দেয়নি।
তিনি আরো দাবি করেন, সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় সরকারের নির্দেশেই তাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, ২০-দলীয় জোটের শরিক হওয়ার কারণেই তৎকালীন সরকার তাদের নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করেছিল। তবে হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।
