ইসরায়েলি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং কিছু সেবার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড দেশটির ইসরায়েল নীতিতে একটি ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের কথা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন আরও সক্রিয়ভাবে তুলে ধরার কথা রয়েছে।
গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও আগের ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তুলনায় কঠোর ভাষায় কথা বলতে পারেন মিলিব্যান্ড। তার ঘোষিত পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর সব দাবি পূরণ না করলেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির সম্প্রসারণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকার পশ্চিম তীরের ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা সব ইসরায়েলি বেসামরিক বসতিকেই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নয়, অর্থায়ন ও বিজ্ঞাপনের মতো কিছু সেবাও আসতে পারে। এর ফলে এসব বসতিতে বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বেআইনি হয়ে যাবে।
মিলিব্যান্ডের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবেও তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বে সহায়তা না করার বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর প্রতি যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে নতুন নীতির সামঞ্জস্য রয়েছে বলে ব্রিটিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাজ্য বলেছিল, ইসরায়েল থেকে আসা পণ্য ও অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের মধ্যে কার্যকরভাবে পার্থক্য করা কঠিন। তবে এবার বসতি-উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০০৫ সাল থেকেই ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে অবস্থিত বসতিতে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পায় না। নতুন পদক্ষেপের ফলে নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হবে।
২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে পণ্য ও সেবার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড। নিষেধাজ্ঞার ফলে বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের ওপরও নির্ভর করবে।
গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলি বাহিনী অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করছে; মিলিব্যান্ড তার এ অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। ইসরায়েল অবশ্য এ অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগে তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সেখানে সংঘটিত ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করার পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যুক্তরাজ্য যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্য এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ই১ নামে পরিচিত বসতি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলি বসতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। কিছু অবৈধভাবে নির্মিত বসতি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে সেগুলো ভেঙে ফেলার কথাও বলেছেন নেতানিয়াহু।
তবে যুক্তরাজ্যের নতুন অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। ইসরায়েল এর আগে মিলিব্যান্ডের গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ভেতরেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে, যেখানে মাত্র ১৮ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
