শেখ হাসিনা
প্রত্যেকে ডাকো, সব জায়গায় আগুন দেবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের রেকর্ডের লিখিত সংস্করণ সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
ওবায়দুল কাদেরসহ আট আসামির বিরুদ্ধে চলমান মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ফোনালাপটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা, দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান এবং অগ্নিসংযোগের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনার কথা উঠে এসেছে।
প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন রয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্থানে পুনরায় জড়ো হচ্ছে এবং অগ্নিসংযোগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায় তাদের।
একপর্যায়ে শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়। ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, বিভিন্ন এলাকায় লোক ঠিক করতে এবং নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে ডেকে নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
আরও পড়ুন: তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব: শেখ হাসিনা
হাছান মাহমুদ ওই নির্দেশনা ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের বিষয়েও কথা বলেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
ফোনালাপে সেতু ভবনে আগুন দেওয়ার প্রসঙ্গও আসে। এ সময় শেখ হাসিনা র্যাব পাঠানোর কথা বলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় জমায়েতের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি।
আলোচনার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ তোলা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত ফোনালাপের শেষদিকে আন্দোলনকারীদের অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে তাদের কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায় শেখ হাসিনাকে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ফোনালাপটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে। মামলার যুক্তিতর্কে এসব ফোনালাপকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে রাষ্ট্রপক্ষ।
