বিসিএস প্রশ্নফাঁস: পিএসসি কর্মকর্তার জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে কৌশিক দেবনাথকে। ছবি: সংগৃহীত
বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। এর আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন কৌশিক। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম।
শুনানিতে আইনজীবী দাবি করেন, কৌশিকের বিরুদ্ধে এজাহার ও অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তার মক্কেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত নন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কৌশিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে শুরু হয় মামলা
বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে করা মামলাটিতে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত ১৮ মে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আবেদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরীক্ষার আগে নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পৌঁছে দিত। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানোর পর পরীক্ষার দিন তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে চক্রটি আগাম মোটা অঙ্কের টাকা নিত।
তদন্তে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের নেটওয়ার্ক বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এ কার্যক্রম চালিয়ে পরীক্ষার গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং সরকারি নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশের পর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ
এর আগে গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন কৌশিক দেবনাথ। তখন আদালত তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিনি। তবে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কৌশিককে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়।
