×

আইন-বিচার

শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ, যা আছে তার নামে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ, যা আছে তার নামে

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলার রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কীভাবে কার্যকর করা হবে, সেই প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে রুলস অব প্রসিডিউর (কার্যপ্রণালী বিধি) সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধন হলে তা শেখ হাসিনার মামলাসহ ইতোমধ্যে দেওয়া অন্যান্য রায়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।

প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “যেগুলো ইতোমধ্যে জাজমেন্ট হয়ে গেছে, এখন যদি রুলস অব প্রসিডিউরে অ্যামেন্ডমেন্ট হয়, সে অনুযায়ী রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্টে ওই রায়ে একই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে। সেটাতে আইনগত কোনো সমস্যা নাই।”

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের আইনে এবং রুলস অব প্রসিডিউরে কোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বা জরিমানা করার বিষয়টি উল্লেখ আছে। ভিকটিম পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও আছে। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় বাজেয়াপ্ত বা অন্যান্য কার্যক্রম করা হবে, সেটা আমাদের প্রসিডিউরে স্পষ্ট করে বলা নাই।”

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের আর আপিলের সুযোগ নেই

এ কারণে ট্রাইব্যুনাল-২-এর একটি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে বলেও জানান তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, “ভবিষ্যতে যেসব রায় আসবে সেখানে যেন এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকে। আমাদের প্রচলিত ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট’ বা ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারায়’ বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি বা জরিমানা আদায়ের যে বিধান রয়েছে, রায়ে যদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে (মিউটেটিস মিউটেন্ডিস) ওই আইনগুলো অনুসরণের কথা উল্লেখ থাকে, তবে সরকারের পক্ষে তা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।”

শেখ হাসিনার নামে কী কী সম্পদ

জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফলে শেখ হাসিনার নামে থাকা কোন কোন সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটির মালিকানা শেখ হাসিনার নামে কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে শেখ হাসিনা যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, সেখান থেকে তাঁর ঘোষিত সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নামে মোট ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ছিল। তাঁর হাতে নগদ ছিল সাড়ে ২৮ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ছিল।

শেখ হাসিনা হলফনামায় তিনটি মোটরগাড়ির তথ্য দেন। এর মধ্যে একটি ছিল উপহার হিসেবে পাওয়া, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। বাকি দুটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা। সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবের মূল্য ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

নিজের নামে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয় ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। জমিগুলো টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে রয়েছে।

মৌচাকে পারিবারিক বাগানবাড়ি

গাজীপুর শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় বাংলাদেশ স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পূর্ব পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে।

স্থানীয় ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালের দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ওই জমি লিখে দিয়েছিলেন। পরে উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিক হন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জমির কিছু অংশ তাঁদের সন্তানদের নামে লিখে দেন। এর মাধ্যমে মালিকানা পান শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদ এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক। নথিপত্র অনুযায়ী, জমির পরিমাণ ২৯৭ শতক বা প্রায় ৯ বিঘা।

পূর্বাচলে শেখ হাসিনার প্লট

হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনার নামে একটি প্লট রয়েছে। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর নামে এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, ছোট বোন শেখ রেহানা (রেহানা সিদ্দিক), রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের (রূপন্তী) নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে পরিবারের ছয় সদস্য ৬০ কাঠা জমি পেয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলছে।

টুঙ্গিপাড়ায় জমি ও সম্পদের তথ্য

হলফনামায় শেখ হাসিনা তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক (আংশিক) জমি নিজের নামে দেখিয়েছেন। জমিটি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। এর অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের পরবর্তী সভাপতি কে? জানালেন শেখ হাসিনা

দুদক ২০২৫ সালের ২২ মে এক ব্রিফিংয়ে জানায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় শেখ হাসিনা তাঁর সম্পদের বিষয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছিলেন। ওই হলফনামায় নিজের নামে থাকা জমির পরিমাণ ৬ দশমিক ৫০ একর উল্লেখ করেছিলেন তিনি। জমিগুলোর ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

দুদকের দাবি, যাচাই করে ওই সময় শেখ হাসিনার নামে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছিল দুদক।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কার?

ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটির মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে। অর্থাৎ বাড়িটির মালিক শেখ হাসিনা নন।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনের মালিকানা তাঁর সন্তান সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের নামে।

রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায়ে বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হলো। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারকে ‘কনসিডারেবল অ্যামাউন্ট অব কম্পেনসেশন’ বা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের আরও কয়েকটি রায়েও আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আশুলিয়ায় হত্যা ও ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ রয়েছে।

তবে এসব সম্পত্তি বাস্তবে কী প্রক্রিয়ায় বাজেয়াপ্ত, বিক্রি বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে, তা স্পষ্ট করতে রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিধিতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া যুক্ত হলে ভবিষ্যতের পাশাপাশি ইতোমধ্যে দেওয়া রায়গুলো বাস্তবায়নেও সরকারের জন্য আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কর্মকর্তা সংকটে স্থবির, সেবা না পেয়ে ভোগান্তি

রায়গঞ্জ পৌরসভা কর্মকর্তা সংকটে স্থবির, সেবা না পেয়ে ভোগান্তি

বাবা ও ছেলের নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন ভূমি অফিস

অনিয়ম-সিন্ডিকেট বাবা ও ছেলের নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন ভূমি অফিস

খানাখন্দে বেহাল সাতৈর-ডোবরা সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

খানাখন্দে বেহাল সাতৈর-ডোবরা সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র: ৮ মাসে প্রাণ গেল ৫২ জনের

ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র: ৮ মাসে প্রাণ গেল ৫২ জনের

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App