হাইকোর্টের রায়
অবসরের পর বিচারকদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ক্লিয়ারেন্সের বাধ্যবাধকতাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। ফলে অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্ট নিতে তাদের আবারও গোয়েন্দা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। বুধবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত গোয়েন্দা যাচাই ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে তা হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন জিপিএ-৫ পেল ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী
রিট আবেদনে বলা হয়েছিল, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকারী। বিচারক পদ থেকে অবসর নেওয়া বা পদত্যাগের পর তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। আগে এ ধরনের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন ছিল না।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট জারি করা এক স্মারকের মাধ্যমে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার আগে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদন নেওয়ার শর্ত আরোপ করে।
এই শর্তের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী সমস্যায় পড়েন। তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি। এতে তিনি বিদেশ ভ্রমণেও বাধার মুখে পড়েন।
পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া প্রশাসনিক এই বাধ্যবাধকতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
পরে ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সেই রুলের নিষ্পত্তি করে সাবেক বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতাকে অবৈধ ঘোষণা করে এ রায় দেওয়া হয়।
